'তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সারা দেব !' -(সূরা মুমিনঃ ৬০)
কাফআমী মিসবাহ গ্রন্থে এ দোয়া উল্লেখ করে বলেছেন, সাইয়্যেদ ইবনে তাউস শাসকদের পক্ষ থেকে আরোপিত চাপ, বিপদ-আপদ, শত্রুর প্রাবল্য, দারিদ্রের ভীতি, চিত্তের সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি ও নিরাপদ থাকার জন্য এ দোয়া বর্ণনা করেছেন। দোয়াটি ইমাম যয়নুল আবেদীন (রহঃ)-এর দোয়াসমূহের সংকলন গ্রন্থ সহীফায়ে সাজ্জাদিয়ার অন্যতম দোয়া। উল্লিখিত বিষয়ের কোন একটি ক্ষতি হওয়ার আশংকা হলে এ দোয়া পড়তে হয়।
يَا مَنْ تُحَلُّ بِهِ عُقَدُ الْمَكَارِهِ، وَ يَا مَنْ يُفْثَأْ بِهِ حَدُّ الشَّدَائِدِ، وَ يَا مَنْ يُلْتَمَسُ مِنِهُ المَخْرَجُ إِلَى رَوْحِ الْفَرَجِ، ذَلَّتْ لِقُدْرَتِكَ الصِّعَابُ، وَ تَسَبَّبَتْ بِلُطْفِكَ الْأَسْبَابُ، وَ جَرَى بِقُدْرَتِكَ الْقَضَاءُ، وَمَضَتْ عَلَى إِرَادَتِكَ الْأَشْيَاءُ، فَهِيَ بِمَشِيْئَتِكَ دُوْنَ قَوْلِكَ مُؤْتَمِرَةٌ، وَ بِإِرَادَتِكَ دُوْنَ نَهْيِكَ مُنْزَجِرَةٌ، أَنْتَ الْمَدْعُوُّ لِلْمُهِمَّاتِ، وَ أَنْتَ الْمَفْزَعُ فِيْ الْمُلِمَّاتِ، لَا يَنْدَفِعُ مِنْهَا إِلَّا مَا دَفَعْتَ، وَ لَا يَنْكَشِفُ إِلَّا مَا كَشَفْتَ، وَ قَدْ نَزَلَ بِيْ يَا رَبِّ مَا قَدْ تَكَأَّدَنِيْ ثِقْلُهُ، وَ أَلَمَّ بِي مَا قَدْ بَهَظَنِيْ حَمْلُهُ، وَ بِقُدْرَتِكَ أَوْرَدْتَهُ عَلَيَّ، وَ بِسُلْطَانِكَ وَجَّهْتَهُ إِلَيَّ، فَلَا مُصْدِرَ لِمَا أَوْرَدْتَ، وَ لَاصَارِفَ لِمَا وَجَّهْتَ، وَ لَا فَاتِحَ لِمَا أَغْلَقْتَ، وَ لَا مُغْلِقَ لِمَا فَتَحْتَ، وَ لَا مُيَسِّرَ لِمَا عَسَّرْتَ، وَ لَا نَاصِرَ لِمَنْ خَذَلْتَ، فَصَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِهِ وَافْتَحْ لِيْ يَا رَبِّ بَابَ الْفَرَجِ بِطَوْلِكَ، وَاكْسِرْ عَنِّيْ سُلْطَانَ الْهَمِّ بِحَوْلِكَ، وَ أَنِلْنِيْ حُسْنَ النَّظَرِ فِيْمَا شَكَوْتُ، وَ أَذِقْنِيْ حَلَاوَةَ الصُّنْعِ فِيْمَا سَأَلْتُ، وَ هَبْلِيْ مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً وَ فَرَجًا هَنِيْئًا، وَاجْعَلْ لِيْ مِنْ عِنْدِكَ مَخْرَجًا وَحِيًّا، وَ لَا تَشْغَلْنِيْ بِالْإِهْتِمَامِ عَنْ تَعَاهُدِ فُرُوْضِكَ وَاسْتِعْمَالِ سُنَّتِكَ، فَقَدْ ضِقْتُ لِمَا نَزَلَ بِيْ يَا رَبِّ ذَرْعًا، وَامْتَلَأْتُ بِحَمْلِ مَا حَدَثَ عَلَيَّ هَمَّا، وَ أَنْتَ الْقَادِرُ عَلَى كَشْفِ مَا مُنِيْتُ بِهِ، وَ دَفْعِ مَا وَقَعْتُ فِيْهِ، فَافْعَلْ بِيْ ذَلِكَ وَ إِنْ لَمْ أَسْتَوْجِبْهُ مِنْكَ يَا ذَا الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، وَ ذَا الْمَنِّ الْكَرِيْمِ، فَأَنْتَ قَدِرٌ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ، آمِيْنَ رَبَّ الْعَالَمِيْنَ.
হে ঐ সত্তা! যাঁর মাধ্যমে দুর্ভাগ্যের জটসমূহ খোলা হয়।
হে ঐ সত্তা! যাঁর মাধ্যমে কঠিন অবস্থাসমূহের তীব্রতা প্রশমিত হয়।
হে ঐ সত্তা! যাঁর থেকে সুখ ও আনন্দের দিকে গমনের পথ অনুনয় সহকারে অন্বেষণ করা হয়।
কঠিন বিষয়াদি আপনার শক্তির মাধ্যমে সহজ হয়ে গেছে এবং আপনার অনুগ্রহের দ্বারা যাবতীয় কারণ ও মাধ্যম প্রস্তুত হয়েছে এবং আপনার ইচ্ছাশক্তির ওপর সমস্ত কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই সবকিছুই আপনার নির্দেশ দান ছাড়াই আপনার ইচ্ছাশক্তির আজ্ঞাবহ এবং আপনার নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই সবকিছু আপনার ইচ্ছার দ্বারা সকল নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকে। কঠিন ও দূরূহ কাজ সমাধা করার ক্ষেত্রে আপনার কাছেই প্রার্থনা করা হয় এবং কঠিন বিপদসমূহে আপনিই হলেন আশ্রয়স্থল। এ সব বিপদের মধ্য থেকে যেগুলো আপনি প্রতিহত করেন সেগুলো ব্যতীত আর কিছুই প্রতিহত হয় না এবং যেগুলো উন্মোচিত করেন সেগুলো ব্যতীত আর কিছুই উন্মোচিত হয় না। যে জিনিসের ভার বহন করা আমার জন্য দূরূহ হয়ে গেছে সেটাই আমার ওপর আপতিত হয়েছে। যা কিছু বহন করা আমার জন্য কষ্টকর সেটাই আমার নিকটবর্তী হয়েছে এবং আপনার ক্ষমতা ও শক্তি আপনি আমার নিকট আনয়ন করেছেন এবং আপনার পরক্রমশালিতার দ্বারা তা আমার দিকে পরিচালিত করেছেন। তাই যা আপনি আমার কাছে আনয়ন করেছেন তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই এবং যা আপনি আমার দিকে পরিচালিত করেছেন তা ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষমতাও কারো নেই। আপনি যা বন্ধ করে দিয়েছেন তা উন্মুক্ত করার কেউ নেই। আপনি যা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন তা বন্ধ করার কেউ নেই। যা আপনি কঠিন করে দিয়েছেন তা সহজ করার কেউ নেই। যাকে আপনি অপদস্থ করেছেন তার সাহায্য করার কেউ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর দরূদ ও সালাত প্রেরণ করুন। আর হে আমার প্রভু! আপনার শক্তির দ্বারা আমার জন্য প্রশস্ততার (সুখ-শান্তি) দরজা উন্মুক্ত করে দিন এবং আপনার অবস্থা পরিবর্তনকারী শক্তির দ্বারা আমা হতে দুঃশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনার আধিপত্যকে ভেঙ্গে দিন। আমি যা অভিযোগ করেছি সে ব্যাপারে আমাকে আপনার অনুগ্রহ, অনুকম্পার সুমিষ্ট স্বাদ ও মাধুর্য অনুভব করান এবং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে দ্রুত বের হওয়ার উপায় সৃষ্টি করে দিন এবং আপনার ফরযসমূহ ও সুন্নাত পালন করার দায়িত্ব পালনের প্রতিজ্ঞা সংক্রান্ত দুঃশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনার মাঝে আমাকে আপতিত করেন না। কারণ, হে আমার প্রভু! আমার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা বহন করতে গিয়ে আমি পরিপূর্ণভাবে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি এবং আমি যে জিনিসের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছি এবং আমি যে বিষয়ের মধ্যে আপতিত হয়েছি একমাত্র আপনিই তা দূর করতে সক্ষম। হে মহান অনুগ্রহ ও কৃপাপ্রদর্শনকারী! হে আরশের অধিপতি! আপনি আমার প্রতি সেটাই করেন। আর যদিও তা আমি আপনার নিকট দাবী করতে পারি না। কারণ, আপনি সর্বশক্তিমান। হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু! আমীন। হে জগৎসমূহের প্রতিপালক!